দিনলিপি | Event Timeline

১৯।১১।২০২৫-পশ্চিম বঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের হুগলী জেলা অফিসে মঞ্চের ডেপুটেশন

বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের পক্ষ থেকে আট সদস্যের  এক প্রতিনিধি দল আজ ডানকুনি হিমালয় ভবনে পশ্চিম বঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের অফিসে হুগলী জেলা পরিবেশ ইন্জিনিয়ার বৈজয়ন্ত মজুমদারের সঙ্গে দেখা করে জানতে চান, সাম্প্রতিক উৎসবের মরশুমে জেলার বিভিন্ন জায়গায় বাজি ও ডিজের তান্ডব চলে, যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। ঐসব তান্ডবের প্রেক্ষিতে পর্ষদ কোনো পদক্ষেপ করেছে কিনা? কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কিনা? জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করার রিপোর্ট (একশান টেকেন রিপোর্ট) চেয়েছে কিনা?
পুলিশ এই সময়কালে বেশ কিছু নিষিদ্ধ  বাজি উদ্ধার করে বলে সংবাদ মাধ্যম ও সমাজ মাধ্যমে জানায়। সেইসব উদ্ধার হওয়া বাজি আইন মেনে হলদিয়া পাঠিয়ে নিস্ক্রিয় করা হয়েছে কিনা?  হয়ে থাকলে কত বাজি নিস্ক্রিয় করা হয়ছে তার কোনো তথ্য পর্ষদের কাছে আছে কিনা। ডানকুনিসহ জেলার বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ বাজি বিক্রি ও বাজি বাজার বসানোর অভিযোগ ওঠে।ডানকুনিতেও দুটি বাজি বাজার বসে, সেখানে পর্ষদের কোনো অনুমতি ছিল কিনা? ঐসব বিক্রয়কেন্দ্র ও বাজারে পর্ষদ কোনো রকম বাজি পরীক্ষা করেছে কিনা? 
বৈজয়ন্তবাবু মঞ্চকে জানান মঞ্চের তোলা প্রশ্নগুলি উনি পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের রাজ্য দপ্তরে পাঠাবেন। তবে পর্ষদ কোনো ক্ষেত্রেই তেমন কোনো পদক্ষেপ করেনি।  বাজি নিস্ক্রিয়করণের কোনো তথ্যও এই মুহূর্তে  পর্ষদের হাতে নেই। জেলার কোথাও কোনো বাজি বাজারের অনুমতি পর্ষদ দেয়নি। কোনো বাজি পরীক্ষাও করেনি। তবে ভবিষ্যতে অভিযোগ পেলে পদক্ষেপ করার প্রতিশ্রুতি দেন। 
আট সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন রুমা বণিক, কাকলি দত্ত, অনিতা গণ, শৌভিক চক্রবর্তী, সুরজিৎ সেন, ভাস্কর চ্যাটার্জি, মাবুদ আলি ও গৌতম সরকার।

২৪। ৮ । ২০২৫ – নাগরিক কনভেনশন এবং ‘সংবাদে-শিরোনামে-৩’ গ্রন্থপ্রকাশ

২৪।৮।২০২৫ – বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চর নাগরিক কনভেনশন

২৪আগস্ট ২০২৫ রিষড়া দাঁ বড়িতে বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চ-র নাগরিক কনভেনশন অনুষ্বাঠিত হয়।
কনভেনশনে গৃহীত প্রস্তাব
বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চ দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি বাজি ও ডিজে বক্সের কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার প্রয়াস চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চ বেআইনি বাজি ও ডিজে বক্সের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে প্রশাসনের দরজায় বারংবার কড়া নাড়ছে। প্রয়োজনে অভিযোগ দায়েরও করছে। আদালতেরও দারস্থ হচ্ছে। ঐসব কর্মকাণ্ডকে আরও সুসংহত করার উদ্দেশ্যে
২৪ আগস্ট ২০২৫ রবিবার বিকেল ৪টে থেকে রিষড়া দাঁ বাড়ির সভাগৃহ ( রিষড়া, হুগলী)-এ বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হল।
ঐ কনভেনশনে “সংবাদে-শিরোনামে ৩” শীর্ষক গ্রন্থটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করা হল। ঐ গ্রন্থটি প্রকাশের উদ্দেশ্য, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত টুকরো টুকরো সংবাদগুলিকে একত্রিত করে, বাজি ও ডিজে বক্স বিষয়ে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে আনা। যা বাজি ও ডিজে বক্স বিষয়ে সমাজ ভাবনারও কিছুটা প্রতিফলন ঘটবে। পাশাপাশি মঞ্চের ভূমিকার সামাজিক স্বীকৃতও লিপিবদ্ধ করে রাখা যাবে।
ধর্মীয় বা সামাজিক অনুষ্ঠানে নানারকম আওয়াজের ব্যবহার দীর্ঘদিন যাবৎ আমাদের সমাজে বিদ্যমান। প্রাচীনকাল থেকেই ঢাক ঢোল শিঙা ক্যানেস্তারাসহ নানা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হতো। এমনকি সতীদাহ করার সময় প্রবল আওয়াজে সতীর আর্তনাদ চাপা দেওয়া হতো। মশাল বা বারুদের ব্যবহারও ছিল। পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞান উন্নত (!) হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শব্দের মাত্রাও বাড়তে থাকে। শব্দের পাশাপাশি আতসবাজির ব্যবহারে বায়ুদূষণের মাত্রাও বাড়তে থাকে। বর্তমানে বিপুল শব্দে বাজা ডিজে বক্স, প্রবল শব্দে ফাটা শব্দবাজি বা ভয়ানক বায়ুদূষণ সৃষ্টিকারী আতশবাজির ব্যবহার বলগা হীন হয়ে উঠেছে।
আমরা জানি,
বাজির ধোঁয়া ও ধোঁয়াশায় ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের সমস্যা হয়। ধোঁয়ায় মিশে থাকা অপেক্ষাকৃত বড় আকারের ধূলিকণাগুলি স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা দেয়। চোখ, গলা ও মুখের মিউকাস পর্দায় আটকে যায়। ফলে জ্বলুনি হয়। অনেক সময় মিউকাস পর্দা চিরেও যায়। ছোট কণাগুলি সরাসরি ফুসফুসে যায়। ফলে গলা-চোখ জ্বালা, কাশি, হাঁপানি বাড়ে। ফুসফুস থেকে রক্তের মাধ্যমে ছোট কণাগুলি মস্তিষ্কে পৌঁছায়। এতে বড় ক্ষতির ভয় থাকে। অতি জোরালো শব্দে রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ বাড়ে। শর্করার মাত্রা বদলে যায় ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ কমে যায়। চামড়া নষ্ট হয়ে যায়। আতসবাজির তীব্র আলোয় চোখ খারাপ হয়। স্নায়ুরোগ দেখা দেয়। শব্দবাজি ও ডিজের বক্সের উচ্চশব্দে গর্ভপাতও ঘটে। সদ্যোজাত শিশুর অঙ্গবিকৃতি ঘটতে পারে। সর্বোপরি ৯০ ডেসিবেলের বেশি শব্দে দীর্ঘক্ষণ কাটালে সাময়িক বা চিরকালীন বধিরতা দেখা দিতে পারে। পশুপাখিরাও বিপন্ন হয়।
বাস্তবে বাজি ও ডিজে বক্স পশুপাখির জন্য এক মারণাস্ত্র। প্রতিবছর কালিপুজোসহ নানা উৎসবে বাজির মাত্রা ছাড়া ব্যবহারে প্রাণ যায় হাজার হাজার নিরীহ পাখির। আচমকা বাজির আলোয় চোখে অন্ধকার দেখে পশুপাখিরা। বাজির বিষাক্ত ধোঁয়াও কম বিপজ্জনক নয়। আচমকা বিকট আওয়াজ হৃদযন্ত্র স্তব্ধ করে দেয় পাখিদের। পথের কুকুর বিড়ালও বিভ্রান্ত হয়, ভয় পেয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করে, এলাকা ছেড়ে পালিয়ে, অন্য এলাকায় গিয়ে আক্রান্ত হয়, আক্রমণাত্মকও হয়ে ওঠে। এমনকি পোষা কুকুর বিড়ালও ভয়ে অস্বাভাবিক আচরণ করে।
আমরা জানি গতবছর ইডেন গার্ডেনে বাজির দাপটে মরতে হয়েছে একটি ঘোড়াকে। বাজি ব্যবহারের পরে যে বর্জ্য পদার্থ মাটি ও জলে মেশে তাও পশুপাখির জন্য বিপজ্জনক।
অন্যদিকে ডিজে বক্সের কান ফাটানো শব্দও বিপন্ন করে প্রাণীদের। এমনও দেখা গেছে ডিজে’র প্রবল শব্দে ষাঁড় আক্রমণাত্বক হয়ে উঠেছে, হাতি ক্ষেপে গিয়ে আক্রমণ করে বসেছে মানুষকে। গ্রাম বাংলায় ডিজের দাপটে গৃহপালিত পশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ে, মৃত্যুও অসম্ভব নয়।

২০১৮ সালে ভারতের মহামান্য সর্বোচ্চ আদালত সুনির্দিষ্টভাবে বলেছিল যে, কালীপুজো ও দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা, ছট্ পুজোয় সকাল ৬টা -থেকে ৮টা ও ইংরেজি বড়দিন এবং নববর্ষে রাত রাত ১১.৫৫ থেকে ১২.৩০ মিনিট পর্যন্ত কেবলমাত্র সবুজ বাজি পোড়ানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, শব্দবাজি সহ অন্যান্য বাজি সন্ধ্যা ৬টা থেকেই পুড়তে শুরু করে। সর্বোচ্চ আদালত আরও বলেছিল, বাজি পোড়ানোর একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করতে হবে। কিন্তু ২০১৮ থেকে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট জায়গা স্থির করা হয়নি যেখানে মানুষ বাজি পোড়াতে পারে। ফলে যেখানে-সেখানে বাজি পোড়ানোয় বায়ুদূষণ ঘটছে, শব্দযন্ত্রণা বাড়ছে।

মহামান্য জাতীয় পরিবেশ আদালত কেবল বৈধ কিউআর কোড সহ সবুজ-বাজি পোড়ানোর ছাড়পত্র দিয়েছে। কিন্তু সর্বত্র যেসব বাজি বিক্রি হয়, তার বেশিরভাগই সবুজ-বাজি নয়। মহামান্য সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সবুজ-বাজিতে ‘ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট’-এর শংসাপত্র থাকতে হবে। কী কী রাসায়নিক যৌগ দিয়ে এটি বানানো, তার উল্লেখ থাকবে। নিষিদ্ধ রাসায়নিক বোরিয়াম ব্যবহৃত হয়েছে কিনা তা-ও জানাতে হবে। কিন্তু বাজারচলতি বেশিরভাগ তথাকথিত সবুজ-বাজিতে এসবের দেখা মেলে না।

বাজি মজুত রাখার ব্যাপারেও বেশ কিছু সরকারি বিধিনিষেধ আছে। বাড়িতে কোনওভাবেই বাজি মজুত রাখা যাবে না।
মহামান্য কলকাতা উচ্চ আদালতের শব্দদূষণ রোধে এক নির্দেশের প্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালে রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এক নির্দেশিকা জারি করে যে, বাজি ফাটানোর জায়গা থেকে পাঁচ মিটার দূরত্বে শব্দসীমা কখনোই ৯০ ডেসিবেলের হবে না। কিন্তু অজানা কারণে মানুষের নৈঃশব্দের অধিকার কেড়ে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ১৭.১০.২০২৩ তারিখের এক নির্দেশিকায় এই নিয়মটিকে শিথিল করে শব্দসীমা ১২৫ ডেসিবেল করে দেয়, কেন এই শব্দ বৃদ্ধি, তার কোনো সন্তোষজনক বিজ্ঞানসম্মত উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য, ১২০ ডেসিবেলই হল অনুভূতিসম্পন্ন সহনশীল শব্দের শেষ ধাপ। এর পরেই শব্দের পীড়াদায়ক স্তর শুরু হয়।

এখানে বলা জরুরি, কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক শিল্পসংস্থাগুলিকে তাদের ‘দূষণ সূচক’-এর (পিআই) মান অনুযায়ী চারটি শ্রেণীতে ভাগ করেছে। যেমন- ‘লাল শ্রেণী’ (পিআই মান ৬০-এর বেশি), ‘কমলা শ্রেণী’ (পিআই মান ৪১-৫৯), ‘সবুজ শ্রেণী’ (পিআই মান ২১-৪০) ও ‘সাদা শ্রেণী’ (পিআই মান ২০-এর কম)। আশ্চর্যের বিষয়, পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কোনোরকম পিআই মানের উল্লেখ ছাড়াই সবুজ বাজিকে সাদা শ্রেণিভুক্ত করেছে। বাজির মতো মারাত্মক দূষণ-সৃষ্টিকারী এক শিল্পকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কেন এবং কীভাবে লাল শ্রেণি থেকে একেবারে সাদা শ্রেণিতে সরালো, তা বিস্ময়কর! উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে রাজ্যে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অবৈধ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণে একশোর বেশি মানুষের প্রাণ গেছে।

‘ন্যাশনাল অ্যামবিয়েন্ট এয়ার কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড’ অনুযায়ী বাতাসে ২.৫-১০ মাইক্রোগ্রাম আকারের ধূলিকণার সহনীয় মান ১০০ মাইক্রোগ্রাম/ঘন মিটার, ২.৫ মাইক্রোগ্রাম আকারের কম ধূলিকণার সহনীয় মান ৩০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার, সালফার ডাইঅক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইড-এর সহনীয় মান ৮০ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার। কিন্তু কালীপুজো, দীপাবলি ও ছটপুজোয় পশ্চিমবঙ্গের কোন শহরাঞ্চলেই উক্ত সহনীয় মাত্রাটি যে বজায় থাকে না, তা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ওয়েবসাইট দেখলেই স্পষ্ট বোঝা যায়।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রশাসন যে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি বাজেয়াপ্ত করে, সেগুলির যথাযথ ব্যবস্থাপনা। আমরা এখনও ভুলে যাইনি, কয়েক বছর আগে উত্তর ২৪-পরগনার নৈহাটি অঞ্চলে বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ বাজি পুলিশ-প্রশাসন থেকে গঙ্গাতীরে আগুন লাগিয়ে নষ্ট করার সময় ভয়ানক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে স্থানীয় অঞ্চলে বেশ কিছু বাড়িতে ফাটল ধরে, এমনকি গঙ্গার বিপরীত পাড়ে চুঁচুড়া শহরের বেশ কিছু বাড়িতেও ফাটল ধরেছিল। তাই বেআইনি বাজি নষ্ট করার সময়েও যথাযথ সতর্কতার প্রয়োজন। উপরন্তু, খোলা আকাশের নিচে এভাবে আগুন দিয়ে নিষিদ্ধ বাজি নষ্ট করার সময়েও ভয়ানক বায়ুদূষণ ঘটে।

রাজ্যে কোথায় কোথায় সবুজ-বাজির কারখানা আছে,তাও স্পষ্ট নয়। জানা গেছে, আমাদের রাজ্যে মাত্র ৭টি সবুজ-বাজি তৈরির কারখানা আছে। বিপরীতে বেআইনি বাজি কারখানা আছে ৫৫০০টিরও বেশি!

বাজি পোড়ানোর পর যে বর্জ্যের সৃষ্টি হয়, তা-ও বিপজ্জনক। বাজি তৈরি থেকে পুড়ে বর্জ্য হওয়া পর্যন্ত পুরো পর্বটাই বিপজ্জনক ও দূষণ-সৃষ্টিকারী।
ডিজে বক্সের ক্ষেত্রেও চরম বেআইনি কার্যকলাপ প্রতি মূহুর্তে নজরে আসে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা অনুযায়ী মাইক বাজাতে হলেও প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সাউন্ড লিমিটার ব্যবহার করে মাইক বাজানো যায়। কারখানা, বাণিজ্যিক, বসতি ও শব্দবর্জিত এলাকার শব্দসীমা নির্ধারণ করা আছে। রাত ১০টার পর ও সকাল ৬ টার আগে মাইক বাজানো যায় না। খোলা জায়গায় ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখি গ্রাম বাংলাসহ সর্বত্র ডিজে বা জেবিএল বক্সের তান্ডব!
এই অবস্থায় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন সমস্ত মানুষের কাছে আবেদন, যেকোনও ধরনের বাজি পোড়ানো ডিজে জেবিএল বক্স বাজানো থেকে দূরে থাকুন। কোনো উৎসবই শব্দ ও দূষণের নয়। আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে, একজনের আনন্দ যেন কখনোই অন্যের দুঃখের কারণ না হয়।

যদিও সরকারি নানা নির্দেশিকা, আদালতের একাধিক রায় এই সব দূষণের বিরুদ্ধে আছে,এবং সেগুলো যথেষ্ট কড়া। কিন্তু সরকারি নির্দেশ বা আদালতের রায় মানানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনের অনিহা লক্ষ্যণীয়। বহুক্ষেত্রেই অভিযোগ দায়ের হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিস্ক্রিয় থেকে পরোক্ষে দূষণকারীকেই সমর্থন দেওয়া হয়। বিশেষত রাজনৈতিক যোগ থাকলে বেআইনি ডিজে বক্স ও বাজির লাগামছাড়া ব্যবহারও স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।

তবু সবটাই হতাশার কথা নয়। গত কয়েক বছরে সচেতনতার মাত্রাও অনেকটাই বেড়েছে। মঞ্চের লাগাতার নাছোড়বান্দা মনোভাবে কোনো কোনো জায়গায় কিছু সাফল্যও মিলছে। বহুমানুষ মঞ্চের সংগে যোগাযোগ করছেন, সমস্যার কথা বলছেন। সংগঠনের ওয়েবসাইট থেকেও অনেকেই আইনী ধারণায় সমৃদ্ধ হচ্ছেন। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও মঞ্চের অভিযোগকে মান্যতা দেওয়া হচ্ছে। এসবই আমাদের খানিকটা আশা জাগায়।

গৌতম সরকার
সাধারণ সম্পাদক
বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চ।

২০। ৬ । ২০২৪ – নাগরিক কনভেনশন এবং ‘সংবাদে-শিরোনামে-২’ গ্রন্থপ্রকাশ

১৬ জুন ২০২৪ বিকাল ৪টায় শ্রীরামপুর পৌরসভার কেষ্ট মুখার্জি ভবনে বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের নাগরিক কনভেনশন অনুষ্ঠিত হল।
ঐ নাগরিক কনভেনশনে হুগলী জেলার প্রায় চল্লিশটি গণসংঠনের প্রতিনিধি ও সদস্যরা অংশ নেন। বাজি ও ডিজের কারণে নির্যাতিতরাও অংশ নেন। অংশ নেন সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। আলোচনায় উঠে আসে বাজি ও ডিজের নানাবিধ ক্ষতিকর দিক। আলোচিত হয় বাজি শ্রমিকদের দূর্দশার কথাও। দেখা যায় বাজি কারখানার বিস্ফোরণের ফলে সব চেয়ে বেশি আহত ও নিহত হন নারী শিশু ও প্রান্তিক মানুষজন। যাঁরা বাধ্য হয়ে বাজি শিল্পের শ্রমিক হন।
সভার সূচনায় গান শোনান জ্যোতিশ্বর দে।
ঐ নাগরিক কনভেনশন “সংবাদে শিরোনামে ২” বইটিও প্রকাশ করা হয়।
বইটি প্রকাশ করে প্রবীণ পরিবেশ কর্মী, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রাক্তন ল অফিসার ও চন্দননগর পরিবেশ একাডেমির সভাপতি বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, না শোনার অধিকারও আইন স্বীকৃত অধিকার, কিন্তু তাকে মান্যতা দেওয়া হয় কই?
মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক গৌতম সরকার সংগঠনের এক বছরের কাজের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, আইন ততক্ষণই প্রাসঙ্গিক যতক্ষণ তা অধিকাংশ মানুষ মেনে চলেন। তা না মানলে প্রশাসনকে কঠোর হতে হয়। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য পরিবেশের বিরুদ্ধে ঘটা অপরাধকে আমরা এখনও অপরাধ বলেই মনে করি না।ফলে যা হওয়ার তাই হয়। কিন্তু আমাদের হাল ছাড়লে চলবে না। প্রতিবাদ জারি রাখতেই হবে।

মনো-সমাজকর্মী মোহিত রণদীপ সামগ্রিক ভাবে শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি বাজি ও ডিজের কারণে মানসিক ক্ষতির দিকটিও আলোচনা করেন।

স্কুল শিক্ষিকা সমাপিকা সিংহরায় জানান, কিভাবে তাঁর প্রাথমিক স্কুলের শিশুদের গত কালী পুজোর রাতে বাজি পোড়ানো থেকে দূরে রেখেছিলেন।

পরিবেশ কর্মী মাবুদ আলি বলেন,পুজোর আগে লোকদেখানো অভিযান হয় কিন্তু সারা বছর বাজি তৈরি হয় ও বিক্রি করা হয়।
সিঙ্গুরের মহাদেব দাস নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে আজ সিঙ্গুরের বিশাল ডিজে প্রতিযোগিতা মঞ্চের সক্রিয়তায় বন্ধের কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন অর্থনীতির শিক্ষক কুণাল সেন, হারাধন রক্ষিত, সমীর সরকার, অসিতাভ গাঙ্গুলি, শক্তিপদ চক্রবর্তী, সুকুমার তেওয়ারি।

অনুষ্ঠানে গান শোনান তাপস নস্কর ও অনির্বাণ বটব্যাল।
নাগরিক কনভেনশনে প্রকাশিত হয় “সংবাদে শিরোনামে-২”। বইটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মঞ্চের কাজকর্মের খন্ডচিত্র,মঞ্চের কাজকর্মের ইতিবৃত্ত, মঞ্চ কর্তৃক প্রকাশিত প্রচারপত্র ইত্যাদির পাশাপাশি জেলায় বাজি ও ডিজে বক্স তান্ডব বিষয়ে নানা খবর।

১৪। ৫ । ২০২৩ – ভদ্রেশ্বর “আন্তরিক” আয়োজিত রক্তার্পণ উৎসব এবং বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী সচেতনতা শিবির।

১৪ই মে ২০২৩ বিশ্ব মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষ্যে ভদ্রেশ্বর পুষ্প বেলা ভবনে অনুষ্ঠিত হল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আন্তরিক আয়োজিত তৃতীয় উদ্যোগ রক্তার্পণ উৎসব ২৩ পাশাপাশি বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী সচেতনতা শিবির।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চাঁপদানি পৌর সভার পৌর প্রধান
সুরেশ মিশ্র, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের পৌর প্রতিনিধি শ্রীকান্ত মন্ডল,
উপস্থিত ছিলেন বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের সভাপতি সুরজিৎ সেন, সাধারণ সম্পাদক গৌতম সরকার।
অনুষ্ঠানে ৫৩ জন রক্তদাতা রক্ত দান করলেন।
গৌতম সরকার আপৎকালীন রক্তসংকট থেকে মুক্তির উপায়ের পাশাপাশি তুলে ধরেন বাজি ও ডিজে র ক্ষতিকারক দিকগুলো। আইনের সংস্থান ও সাধারণ মানষের করণীয়র উপরেও আলোকপাত করেন।
সুরজিৎ সেন বলেন আন্তরিকের মতো আরো সংগঠনের দরকার। এই সামাজিক ব্যবস্থায় নাগরিক নজরদারি বাড়াতে এমন সংগঠনের প্রয়োজন আছে।
পৌরপ্রধান সুরেশ মিশ্র আন্তরিককে অভিনন্দন জানিয়ে রক্তদানের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার দুজন বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ কৌশিক বোস ও ডাঃ নিলার্ণব মন্ডল।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুন্দর ভাবে অনুষ্ঠিত হয়।


৯।৫। ২০২৩ – জিরাট কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়ে রবীন্দ্র জন্মদিন

৯ মে ২০২৩: হুগলির জিরাটের “জিরাট কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়” ভিন্নভাবে পালন করলো রবীন্দ্র জন্মদিন । পরিবেশ ভাবুক , সুন্দরের প্রতি আস্থাশীল কবি বারেবারে অন্যায়ের বিরুদ্ধে , ফ্যাসিজিমের বিরুদ্ধে , পরিবেশ হননকারীদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন । সেই কথা স্মরণ করেই বর্তমান সময়ে শব্দদানব ডিজে বক্স ও বাজির তান্ডবের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর সংগ্রহ করলো স্কুল পড়ুয়া শিক্ষক শিক্ষিকা শিক্ষাকর্মীরা এবং পরিচালন সমিতির সভাপতি।সেই স্বাক্ষরিত আবেদন তুলে দেওয়া হল বলাগড় সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক নীলাদ্রি সরকারের হাতে। আবেদন করা হল যাতে বাজি ও ডিজে বক্স বন্ধ করা যায়। শ্রী নীলাদ্রি সরকার বললেন শব্দ দূষণ ও বাজির ক্ষতিকারক দিক নিয়ে । তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন ।
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ও অতিথি ছিলেন বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক শ্রী গৌতম সরকার। তিনি বাজি ও ডিজে-র জন্য মানুষের কি ক্ষতি হয় সে দিকটি যেমন আলোকিত করেন তেমনি আইনগত বিধিনিষেধ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন।একইভাবে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন এগিয়ে আসার জন্য ।
বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের কাছ থেকে স্কুলগুলিতে সচেতনতার উদ্দেশ্যে চল্লিশটি “সংবাদে শিরোনামে” গ্রন্থ সংগ্রহ করেন সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক নীলাদ্রি সরকার।
সমবেতভাবে শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে শপথ নেয় এ বছর পুজোয় তারা আর বাজি হাতে তুলে নেবে না।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

২। ৪। ২০২৩ – নাগরিক কনভেনশন

২ এপ্রিল ২০২৩, শ্রীরামপুর টাউনহলে মঞ্চের আহ্বানে অনুষ্ঠিত হল নাগরিক কনভেনশন। নাগরিক কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ আন্দোলনের বিশিষ্ট কর্মী তথা সবুজ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক নব দত্ত, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের প্রাক্তন আইন আধিকারিক তথা চন্দননগর পরিবেশ একাডেমির সভাপতি বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়, বিশিষ্ট সাংবাদিক স্বাতী ভট্টাচার্য, শ্রীরামপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান গিরিধারী সা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয় সংবাদে শিরোনামে শীর্ষক একটি গ্রন্থ সংকলন। সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে অক্টোবর ২০২১ – নভেম্বর ২০২২ পর্যন্ত সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত মঞ্চের কাজকর্মের খন্ডচিত্র সম্পাদনা করেছেন গৌতম সরকার ও সুরজিৎ সেন।
এই সংকলন হুগলী জেলায় বাজি পোড়ানো ও জনস্থানে ডিজে বক্স ব্যবহারের মাধ্যমে সৃষ্ট শব্দদূষণের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে মুদ্রিত তথ্য এবং সে বিষয়ে মঞ্চের ভূমিকার নথিবদ্ধকরণ।এই সংবাদগুলি পড়ে পাঠক তাঁর সমাজ বাস্তবতারও একটা আঁচ পাবেন।
বৈদ্যুতিন সমাজ-মাধ্যম, যাকে সোশ্যাল মিডিয়া বলা হচ্ছে, যা এখন সর্বজনীন স্বীকৃত এক প্রকাশ মাধ্যম, তাতে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে, বাণিজ্যিক সংবাদ মাধ্যমের পেশাদারী নিরপেক্ষতার প্রতি এখনও আমরা আস্থাশীল। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য প্রাচুর্য এক তাৎক্ষণিকতায় ঘুরপাক খায়। তাই সংবাদপত্রে একটুকরো ‘খবর’ কখনও শিরোনামে কখনও অকিঞ্চিৎকর হলেও, তা গুরুত্বে সুদূরপ্রসারি। সেইসব ‘খবর’ যা আমাদের নাছোড়বান্দা প্রয়াসকে এক বৃহত্তর সামাজিক স্বীকৃতি দিয়েছে তা গ্রন্থন জরুরি বলে আমরা মনে করেছি।এই সমস্ত টুকরো খবরকে দু মলাটের মধ্যে বাঁধলে আপাত – বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলি কোথাও এক সংহত প্যাটার্ন তৈরি করে। দেয় এক বিহঙ্গদৃষ্টি, যা এই সমস্যাটিকে বুঝতে এবং তার মোকাবিলা করতে আমাদের এবং আমাদের সহযাত্রীদের সাহায্য করবে,তাই এই সংকলন।
বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক স্বাতী ভট্টাচার্য।
নব দত্ত হুগলী জেলার বাজি ও ডিজে বক্স জনিত সমস্যা ও তা নিয়ে আন্দোলনের রূপরেখার উপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন না শোনার অধিকারও আইন স্বীকৃত অধিকার তাকে মান্যতা দিতে হবে সকলকেই।
স্বাতী ভট্টাচার্য বলেন, একটি বই প্রকাশ করে আমাদের আনন্দ পাওয়ার কথা, কিন্তু এই বইটি প্রকাশ করে আমরা আনন্দিত হতে পারছি কই! কত মানুষের কত যন্ত্রণা আর তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের দলিল এই বই। সমাজে এই অত্যাচার না থাকলে এই বই প্রকাশেরও দরকার হত না।
বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক গৌতম সরকার মঞ্চের বিগত দিনের কাজকর্মের রূপরেখার আভাস দিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে অবহিত করেন।
এসেছিলেন বহু সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বাজি ও ডিজে বক্সের অত্যাচারে আক্রান্ত বহু মানুষ। ছিলেন প্রায় চল্লিশটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
মণিকা মৈত্র, সমাপিকা সিংহরায়, ত্রিজিৎ মোদকরা জানান কিভাবে তাঁরা অত্যাচারিত হয়েছেন।
কনভেনশনে গান শোনান তাপস নস্কর ও শিল্পী ঘোষ।
অনুষ্ঠান শেষে সকলকে ধন্যবাদ জানান মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক গৌতম সরকার।

১৬। ২। ২০২৩ – চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে দাবিপত্র পেশ

১৬।২।২০২৩ – ডিসিপি(হেড কোয়ার্টার) নিধি রাণী-র কাছে দাবিপত্র পেশ করছেন শ্রী গৌতম সরকার। উপস্থিত আছেন শ্রী সনৎ রায়চৌধুরী
১৬।২।২০২৩ – ডিসিপি(হেড কোয়ার্টার) নিধি রাণী-র সঙ্গে আলোচনারত বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের প্রতিনিধিদল

১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চ-এর পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধি দল চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি(হেড কোয়ার্টার) নিধি রাণী-র সঙ্গে জেলার বাজি ও ডিজে বক্স সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে এক বৈঠক হয়। বৈঠকে মঞ্চের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সনৎ রায় চৌধুরী, প্রদীপ দত্ত, পূর্ণিমা বটব্যাল,অর্চনা দেব, মাবুদ আলি ও গৌতম সরকার।
মঞ্চের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় –
পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকলেও কোথাও প্রকাশ্যে ড ডিজে বক্স বা মাইক্রোফোন বাজানো হলে সাউণ্ড লিমিটার ব্যবহার করা হচ্ছে না।
অভিযোগ পেলে পুলিশ শুধু মাত্র নিষেধ করছে, কোনো আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
কমিশনারেট এলাকায় অনুষ্ঠান ভবনগুলিতে যথেচ্ছ বাজি ও শব্দদূষণ হচ্ছে। যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার।
কমিশনারেট এলাকার কিছু জায়গায় যথেচ্ছ নিষিদ্ধ বাজি অবৈধ কারখানায় তৈরি হচ্ছে এবং তা সমগ্র জেলায় অবাধে বিক্রি হচ্ছে।
রাজনৈতিক নেতানেত্রীদের মদতেও অনেক জায়গাতেই বাজি ডিজে ও বক্সের দূষণ মাত্রা ছাড়াচ্ছে।
সমস্ত বিষয়েই অবিলম্বে উপযুক্ত আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়।
ডিসিপি মঞ্চের প্রতিনিধি দলকে জানান আগামীকাল, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ কমিশনারেটের সভায় বিষয়টি এ্যাজেন্ডা হিসাবে রাখবেন ও সমস্ত থানার আধিকারিকদের সাথে আলোচনা করে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবেন।


৩ -৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ -১৮ তম কোন্নগর বিজ্ঞান মেলায় বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চ


যুক্তিমন কলা ও বিজ্ঞান কেন্দ্র আয়োজিত ১৮ তম কোন্নগর বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হল গত ৩,৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩। প্রতিদিন দুপুর তিনটে থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা চলে। মেলায় বিভিন্ন স্কুল, বিজ্ঞান ও সামাজিক সংগঠন অংশগ্রহণ করে। ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশ সচেতনতায় জল সংরক্ষণ, বৃক্ষ রোপণ, অগ্নি নির্বাপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দূর্ঘটনা রোধ প্রভৃতি বিষয়ে মডেল প্রদর্শন করেন। পাশাপাশি আই ব্যাঙ্ক, আন্তরিক, বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের মতো সামাজিক সংগঠনও তাদের প্রচার চালায়। মেলায় প্রতিদিনই নানান আলোচনা, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। মেলার শেষ দিন সমাজের বেশ কয়কটি গণসংগঠনকে সম্মানিত করা হয়।


২২। ১২। ২০২২ – বিজয় নারায়ণ মহাবিদ্যালয় (ইটাচুনা, হুগলী) – সচেতনতা শিবির

বিজয় নারায়ণ মহাবিদ্যালয় (ইটাচুনা, হুগলী) – সচেতনতা শিবিরে বক্তব্য রাখছেন গৌতম সরকার ।
মঞ্চে রয়েছেন নব দত্ত
বিজয় নারায়ণ মহাবিদ্যালয় (ইটাচুনা, হুগলী) – সচেতনতা শিবির ২২।১২।২০২২

বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের উদ্যোগে আজ বিজয় নারায়ণ মহাবিদ্যালয় (ইটাচুনা, হুগলী) – সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। শিবিরে বক্তব্য রাখেন সবুজ মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক নব দত্ত এবং বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক গৌতম সরকার। দুজন বক্তাই বাজি ও ডিজের মারাত্মক ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরেন। বাজি ও ডিজে কীভাবে পরিবেশকে দূষিত করছে তাও বুঝিয়ে বলেন। আইনের বিধি নিষেধ নিয়েও অবহিত করা হয়।
ছাত্র ও শিক্ষকরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কেউ অভিযোগ করেন রাস্তার গাড়িতে চলমান ডিজের দাপটে অস্থির হতে হয়। কেউ পিকনিকে বা বিয়ে উপলক্ষে বাজা ডিজে বা বাজি নিয়ে অভিযোগ করেন। পান্ডুয়ার এক ছাত্রী জানান তাঁর বাবার হার্টের অসুখ, কিন্তু পাড়ায় প্রায়ই নানা উপলক্ষে ডিজে বাজে, যাতে অসুস্থ হয়ে পড়েন।নানা সময়ে প্রশাসনিক নিস্ক্রিয়তা নিয়েও অনেকে অভিযোগ করেন। জেলা জুড়ে বাজি ও ডিজে বক্স বিরোধী মঞ্চের উদ্যোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। ফোন নম্বরও চেয়ে নেন অনেকেই। সকলেই বাজি ডিজে বক্সে বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করেন।


২১-২৫ ডিসেম্বর ২০২২ – চন্দননগরে পরিবেশ এ্যাকাডেমী আয়োজিত ১৮ তম পরিবেশ মেলায়

২২-২৫ ডিসেম্বর চন্দননগরে পরিবেশ এ্যাকাডেমী আয়োজিত ১৮ তম পরিবেশ মেলায় বাজি ও ডিজে বিরোধী মঞ্চ।

২। ১২। ২০২২ – বাজি না জ্বালানোর জন্য শিশুদের অভিনন্দন

হুগলী জেলার বাজি ও ডিজে বিরোধী মঞ্চের পক্ষ থেকে ও সবুজ মঞ্চের সক্রিয় সহযোগিতায় হুগলী জেলা জুড়ে ধারাবাহিক ভাবে বাজি, ডিজে ও উচ্চ আওয়াজ দূষণের বিরুদ্ধে মানুষকে সংগঠিত করছে। সাধারণ ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রচার, সভা, লিফলেট, পোস্টার ও আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে ।পাশাপাশি প্রসাশনের বিভিন্ন স্তরে,পৌরসভা, পঞ্চায়েত, মহকুমাশাসক, জেলাশাসক, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন থানায় স্মারকলিপি, দিয়ে মঞ্চ বাজি ও ডিজে বিরোধী দাবি তুলে ধরছে ও বাজি ও ডিজে বিষয়ক আইন, নির্দেশিকা পালনের আবেদন জানাচ্ছে। নাগরিকদেরও উৎসাহিত করা হচ্ছে বাজি,ডিজে ও উচ্চ আওয়াজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে।সম্প্রতি মঞ্চের উদ্যোগে প্রায় হাজারজন প্রবীণ নাগরিক রাজ্যের মুখ্য সচিবের কাছে চিঠি দিয়ে বাজি ডিজে নিয়ন্ত্রণের আবেদন করেছেন।
বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদে অভিযোগ জানিয়ে ডিজে ও বাজি বন্ধ করানো হয়েছে।
সম্প্রতি উৎসবের মরশুম উপলক্ষে জেলাজুড়ে প্রচার চালানো হয়।।
এই পর্বেই আরও বহু জায়গার মতোই বোসো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সমাপিকা সিংহ রায় এগিয়ে এসে তাঁর প্রত্যন্ত গ্রামীণ প্রাথমিক বিদ্যালয়েও প্রচার চালান, অভিভাবকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে সচেতনতার সভা করেন। ফলস্বরূপ এবার উৎসবের মরশুমে বোসো প্রাথমিক স্কুলের একশো বাইশ জন ছাত্রের মধ্যে একাত্তর জন ক্ষুদে ছাত্রছাত্রী কোনো রকম আতসবাজি জ্বালাননি। যা জানতে পেরে মঞ্চ সিদ্ধান্ত নেয়, বোসো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাত্তর জন ছাত্রছাত্রীকে অভিনন্দন জানানোর।
০২ ডিসেম্বর ২০২২ বেলা বারোটায় ঐ স্কুলে ক্ষুদেদের হাতে তুলে দেওয়া হল বাজি না জ্বালানোর স্বীকৃতি স্বরূপ মেমেন্টো, ছবি আঁকার খাতা ও রং পেন্সিল। ঐ অনুষ্ঠানে বোসো প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ধনিয়াখালি থানার ও সি সুব্রত দাস এবং বাজি ও ডিজে বিরোধী মঞ্চের অন্যতম সহসভাপতি ভাস্কর চ্যাটার্জি ও সাধারণ সম্পাদক গৌতম সরকার। বোসো প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও অন্যান্য শিক্ষিকা শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে শিশু ও অবিভাবকদের বোঝাতে পেরেছেন, এবার আনন্দ পাওয়ার ধরণটি বদলানোর সময় এসেছে। নিজের ও অন্যের উপর পীড়ন নয় সৃষ্টিশীল চর্চা,যেমন ছবি আঁকা, গান গাওয়া, কবিতা লেখা আবৃত্তি করা বা বৃক্ষ রোপনের ভেতরে অনেক বেশি সুস্থ আনন্দ থাকে।
বাজি ও ডিজে বিরোধী মঞ্চও বিশ্বাস করে, শিশু মনে এই ধারণাটি গেঁথে দিতে পারলেই পৃথিবী সুন্দর হবে। তাই স্বীকৃতির এই প্রয়াস।